# Tags

তেঁতুলিয়াকে পর্যটকবান্ধব করতে উপজেলা প্রশাসনের নানামুখী উদ্যোগ বাস্তবায়িত হচ্ছে বেশ কিছু উন্নয়ন কার্যক্রম

পঞ্চগড় প্রতিনিধি-পর্যটন সম্ভবনাময় উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের সীমান্তবর্তী উপজেলা তেঁতুলিয়ায় প্রতিনিয়ত পর্যটকদের আগমনে ভরপুর থাকে। তবে অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সবচেয়ে বেশী পর্যটকদের ঢল নামে। কারন এসময় মেঘ মুক্ত আকাশে কাঞ্চনজঙ্ঘার হাতছানি ও শীতের আমেজ উপভোগ করা যায়। এছাড়াও বিভিন্ন পর্যটন ও দর্শনীয় স্থান ঘুরে বেড়ান পর্যটকটরা।

তবে এবার আগত পর্যটদকদের জন্য আরও সৌন্দর্য ও পর্যটন সম্ভাবনাকে প্রসারিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। পর্যটন ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য এসব একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ করছেন তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরু।
জানা গেছে, সীমান্তবর্তী এ উপজেলায় এখনো তেমন গড়ে ওঠেনি কোনো ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান বা বড় কলকারখানা। উন্নয়নের ছোঁয়াও ছিল অনেকটা সীমিত। তবে বিগত কয়েক বছরে তেঁতুলিয়া উপজেলা পর্যটন সমৃদ্ধ অঞ্চলে রূপ নিচ্ছে, যা পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। এই উপজেলাকে আরও পর্যটকবান্ধব করতে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের জিরো পয়েন্টে দেশের সর্বোচ্চ পতাকা স্তম্ভ ও প্রাঙ্গণ নির্মাণ। যার কাজ প্রায় শেষের পথে। এটি পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তেঁতুলিয়া পুরাতন বাজার সংলগ্ন মহানন্দা নদীর তীরে শিশুদের জন্য নির্মিত হচ্ছে একটি আধুনিক শিশু পার্ক। এখানে থাকবে চিলড্রেন রাইডস ও বিভিন্ন খেলাধুলার সরঞ্জাম, যা শিশু-কিশোরদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে সহায়ক হবে। শুধু পর্যটন নয়, শিক্ষাক্ষেত্রেও নেওয়া হয়েছে নানামুখী পদক্ষেপ। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতে সহায়তা করতে বিতরণ করা হয়েছে বাইসাইকেল। উপজেলার বিভিন্ন এতিমখানার শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুলব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে, যা শিশুদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষ উন্নয়ন ও শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করা হচ্ছে। উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণের অফিসার্স ক্লাব সংলগ্ন মাঠের উন্নয়ন কাজও চলমান রয়েছে।
উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মসজিদ, মন্দিরসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। ভিক্ষাবৃত্তি থেকে ফিরে আসা, বিধবা ও নির্যাতিত নারীদের জন্য সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের চলাচল সহজ করতে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়েছে। জনসেবাকে আরও স্বচ্ছ ও দক্ষ করতে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে দুটি ওয়েব-ভিত্তিক এপ্লিকেশন সফটওয়্যার। এর মাধ্যমে প্রকৃত উপকারভোগী যাচাই, প্রকল্প গ্রহণে দ্বৈততা নিরসন এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এই সফটওয়্যার ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধান ও কারিগরি কর্মীদের প্রশিক্ষণও প্রদান করা হয়েছে।
পর্যটন খাতে কাজ করা নর্থবাংলা ট্রাভেল এন্ড ট্যুরিজম’র পরিচালক আবু সুফিয়ান বলেন, তেঁতুলিয়ায় সারা বছরই নানা প্রান্ত থেকে পর্যটকরা আসেন। তবে তাদের আকর্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু ছিল না। নতুন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে পর্যটন খাত এগিয়ে যাবে। আমরা এসব মহতী উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।
জাতীয় পরিবেশ পদকপ্রাপ্ত পরিবেশ কর্মী মো. মাহমুদুল ইসলাম বলেন, তেঁতুলিয়ায় শিশু পার্ক, মহানন্দা পার্ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ইউএনও সাহেব সত্যিকারের কাজ করে দেখাচ্ছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরু বলেন,স্বপ্নের শহর তেঁতুলিয়াকে নতুন আঙ্গিকে সাজাতে এবং কর্মসংস্থান ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে পর্যটন খাতে ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। আমরা তেঁতুলিয়ায় জনকল্যাণমুখী প্রকল্প বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করি। #